নির্বাচনী ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –নির্বাচনী ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

নির্বাচনী ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি

 

নির্বাচনী ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি

 

ক) সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- বঙ্গবন্ধু ঘোষিত এই মৌলিক নীতি অনুসরণ করেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ এই নীতিই অনুসরণ করবে।

খ) অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ যে দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছে, ভবিষ্যতে এই ধারাকে আরও বেগবান ও ফলপ্রসূ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অমীমাংসিত বিভিন্ন সমস্যার, বিশেষত, ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানের ফলে সৎপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বিকাশের এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার যে আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ভিত্তি করে সার্ক বিমসটেক ও অন্যান্য আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটকে শক্তিশালী করা হবে।

বিশেষ করে সার্ক-কে আরও সক্রিয় করার এবং দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (SAFTA) গড়ে তোলার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। যৌথ নদী কমিশনকে কার্যকর করে ভারতের সঙ্গে অন্যান্য অভিন্ন নদীর অমীমাংসিত পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান করা হবে। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্ত সমস্যার শাস্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

 

গ) উন্নয়নশীল ৮-জাতি গ্রুপকে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী সহযোগিতার জোট হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস অব্যাহত রাখা হবে।

 ঘ) জাতিসংঘ ও তার অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জাতিসংঘ শাস্তি মিশনে বাংলাদেশ আরও অধিকতর কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবে। জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন সংস্থা, কমনওয়েলথ ও ইসলামি ঐক্য সংস্থার (OIC) সঙ্গে বাংলাদেশের ফলপ্রসূ সম্পর্ক বিকাশের প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে। ‘আসিয়ান’-এর সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন প্রয়াস চালানো হবে।।

 

নির্বাচনী ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি

 

ঙ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ, জাপান ও কানাডা প্রভৃতি অর্থনৈতিক পরাশক্তিসমূহের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্বের নীতির ভিত্তিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন এবং এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের সঙ্গেও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করা হবে।

Leave a Comment