বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের উপসংহার

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের উপসংহার। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের উপসংহার

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের উপসংহার

 

শেষ করার পূর্বে আজকের কাউন্সিল সভা যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সার্থকতা লাভ করেছে তাঁদের সম্বন্ধে কিছু বলা প্রয়োজন ।কাউন্সিল সভা উপলক্ষে একটি অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করা হয়। এ অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব গাজী গোলাম মোস্তফা। তিনি এবং ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের সকল কর্মী ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কোন অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য আমাদের কার্যকালের সকল সময়েই অকুণ্ঠ সমর্থন দান করেছেন।

কাউন্সিল সভার ব্যাপারেও তিনি অনুরূপ দরদ দিয়ে বিভিন্ন উপ-কমিটিগুলির সাথে আলোচনা করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন বৈঠকে মিলিত হয়ে সামগ্রিক কর্মসূচীর সমন্বয় সাধন করে সুষ্ঠুভাবে এ আয়োজনে সাহায্য করেছেন। আমার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির সম্পাদকমণ্ডলী ও ঢাকায় উপস্থিত মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মীবৃন্দ যৌথভাবে আমাদের সম্মেলনের জন্য ক্রমাগত দু-মাস পরিশ্রম করেছিলেন। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ ও নির্দেশ ক্রমে দুরূহ কাজকে সহজ করেছে।

প্রিয় বন্ধুগণ

আজ আমরা দেশ এবং জাতিকে একটি নবতর আদর্শ মুজিববাদে সফল উত্তরণে সহায়তা করার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি। আদর্শনিষ্ঠ জাতি সৃষ্টি করার বিরামহীন সংগ্রামের ফলশ্রুতি হিসেবে আমরা পেয়েছি মায়ের অশ্রুতে, ভাইয়ের রক্তে ভেজানো আমাদের প্রিয় স্বদেশের মুক্তি- আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের প্রতিটি কর্মীর উপর প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব পড়েছে স্বাধীনতার সুফল বাংলার দুঃখী মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া। সুদীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে লালিত আদর্শ নিষ্ঠার সাথে অনুশীলনের মাধ্যমে আদর্শ নিষ্ঠ জাতি সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

সে আদর্শ হলো মহানজননায়ক বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শনের আলোকে আমাদের ঘোষণাপত্রে বিঘোষিত মূলনীতি- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা- তথা মুজিববাদ। একটি নবতর মতবাদ- একটি জাতীয় জীবনাদর্শ বাংগালী জাতির প্রাণশক্তির উৎস। এ সত্য আজ আমাদেরকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে একটি দেশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকার পরিচালনা করা এবং একটি জাতিকে নতুন মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে একটি নতুন আদর্শে উত্তরণ করানো দুটির ব্যবধান অনেক।

বিগত দিনে আমরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি- একটি সরকার পরিচালনা করার তাই আমাদের মন ও মগজ সরকার মুখীন। কিন্তু আজ যে দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পিত তা হলো আদর্শ মুখীন জাতি সৃষ্টি করা এবং সেই জাতির সঠিক লক্ষ্য পথে পরিচালনা করার জন্য আদর্শ ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কর্মী সৃষ্টি করা। সে কর্মীদের অবশ্যই আত্মশুদ্ধি এবং আত্মসংযমের নজীর স্থাপন করতে হবে। তাই জাতীয় দুর্যোয়ের নেতাসহ আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীর জীবনকে একটি নির্দিষ্ট আদর্শের কাঠামোর মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে সমাজতন্ত্রের সার্থক উত্তরণের পথ সুকঠিন। নিজের জীবনে আত্ম সমালোচনা অনুশীলনের মাধ্যমে প্রকৃত সমাজতান্ত্রিক কর্মী তৈরি করতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘সমাজতন্ত্রের কোন সহজ পথ নাই’। এ পথ সত্যই কঠিন এবং সংগ্রামমুখর। আমাদের একুশ মাসকাল কার্যক্রমে আদর্শের এ পথের প্রাথমিক বক্তব্য দেশের মানুষের কাছে পেশ করেছি।

 

“এবারের সংগ্রাম দেশ গড়ার সংগ্রাম” বঙ্গবন্ধুর সেই উদাত্ত আহ্বান জাতির প্রতি আমাদের স্মরণের আলোতে উজ্জ্বল। তিনি বলেছেন, “আমাদের এক যুদ্ধ শেষ হয়েছে আর এক যুদ্ধ শুরু। তাহলো অর্থনৈতিক মুক্তির যুদ্ধ- শোষণহীন, সমাজ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ- দারিদ্র্য মহামারী, অশিক্ষা-কুশিক্ষার বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ” । বঙ্গবন্ধুর সেই বাণীকে অর্থবহ করে তুলতে হবে আওয়ামী লীগের ৫০ লক্ষ সৈনিক কর্মীদের। বাংলার গ্রামে গ্রামে যে সিপাহসালারের নির্দেশে “যারা যা আছে তাই নিয়ে দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন আজও সেই বিপ্লবী জননায়ক আপনাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আবার আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকায় নামতে হবে। বাংলার দুঃখী মানুষের পাশে তেমনিভাবে দাঁড়াতে হবে। ধূলিমলিন গ্রামের কৃষককে কোলে তুলে নিতে হবে। বিধবা বোনের চোখের জল মুছে দিতে হবে-মা-হারা ছেলের ক্রন্দনের সান্ত্বনা হয়ে আপনাদেরকেই যেতে হবে। আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে বাংলার অনাড়ম্বর সরল মানুষকে যেন কেউ বিপথে পরিচালনা করার সুযোগ না পায়। বাংলার পলিমাটির সুযোগ গ্রহণ করে দুই শত বছর ব্রিটিশ এবং ২৪ বছর পাকিস্তান উপনিবেশ হিসেবে এদেশের প্রচুর সম্পদ তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে।

কিন্তু বাংগালীর যুগান্তকারী ঐক্য সকল বিদেশী শোষণের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসের নতুন দিক নির্ণয় করেছে। পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী, উগ্র সম্প্রসারণবাদী শক্তিসমূহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হতে আজ পর্যন্ত ক্রমাগত তাদের দালাল অনুচরদের মদদ যুগিয়ে আসছে এবং আমাদের জাতীয় প্রগতি ও অগ্রগতির দুশমনদের সাথে আঁতাত করে জাতীয় প্রগতির পথে অন্তরায় সৃষ্টির অপপ্রয়াস পাচ্ছে।

আজ আমাদের এই কাউন্সিল সভায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে যে ২৪ বছর পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের সাথে লড়াই করে আমরা যেভাবে আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ঐতিহ্যকে এক মুহূর্তের জন্য এতটুকু ম্লান হতে দেয়নি বরং ইতিহাসের গৌরবময় গাথা রচনা করেছি তেমনি জাতীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে, ঘাটে-মাঠে, কলে-কারখানায় জাতীয় মতাদর্শ বিরুদ্ধ শক্তির সাথে লড়াই শুরু করবো। তা হবে রাজনৈতিক লড়াই ।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের উপসংহার

 

আমাদের সংগ্রামী স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়ী প্রাণের অধিক প্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখবো। দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করি, “তোমার পতাকা যাহারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি”। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শুভ- উদ্বোধন হয়েছে। জাতির অর্থনৈতিক বুনিয়াদের ভিত্তিভূমি রচিত হয়েছে। স্বনির্ভর জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের পূর্ণ মূল্যায়নের জন্য এ দেশের কল্যাণকামী প্রতিটি মানুষ বিশেষতঃ বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং দেশ- প্রেমিক রাজনৈতিক দলের কর্মীবৃন্দ কলে-কারখানায় ক্ষেত-খামারে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাম্রাজ্যবাদী, উগ্রসম্প্রসারণবাদীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে আমাদের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করে যাবেন এই আবেদন করবো। আমাদের অগ্রাভিযানে আপনারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ সোনার বাংলা গড়ার কাজে “সোনার মানুষ” হিসেবে কাজ করে যাবেন। সংগ্রামী দেশবাসীর উপর দৃঢ় আস্থা রেখে আমি আমার রিপোর্ট এখানে শেষ করছি।

জয় বাংলা

জয় বঙ্গবন্ধু

জয় মুজিববাদ

জয় আওয়ামী লীগ ।

Leave a Comment