কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য : ভিক্ষার ঝুলি ফেলে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –  কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য : ভিক্ষার ঝুলি ফেলে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

 কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য : ভিক্ষার ঝুলি ফেলে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত

 

 কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য : ভিক্ষার ঝুলি ফেলে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত

 

  • খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন আওয়ামী লীগের অবিস্মরণীয় সাফল্য। কৃষি খাতকে বিএনপি সরকার চরম অবহেলা করেছিল। ন্যায্যমূল্যে সার কিনতে চাওয়ার অপরাধে ১৮ জন কৃষককে বিএনপি সরকারের পুলিশের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল। দেশে খাদ্য ঘাটতি থাকলে বেশি করে। বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া যাবে’- বিএনপি সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই কৃষি খাত চরমভাবে উপেক্ষিত হয়। ফলে কৃষি খাতে নেমে এসেছিল স্থবিরতা। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল।
  • আওয়ামী লীগ সরকার কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। এই লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কৃষিনীতি গ্রহণ করা হয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কৃষিনীতি বাস্তবায়নের জন্য উল্লেখযোগ্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো, সেগুলো ছিল-

ক) ব্যাপকভাবে কৃষিঋণ ও তার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। বিএনপি আমলে কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল গড়ে ১,১৯৫ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ঋণ সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২,৩৯৫ কোটি টাকা। উল্লেখ্য যে, বর্গাচাষীদেরও কৃষিঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।

খ) ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ও সেচযন্ত্রসহ সকল কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে দেশে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

গ) সুলভ মূল্যে সার সরবরাহ এবং সারের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য দাতাদের আপত্তি সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ বছরে ৫১১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করে।

ঘ) পরোক্ষ ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের বিদ্যুৎ ও ডিজেল সহনীয় মূল্যে সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রচ্ছন্ন ভর্তুকি ছিল ২৬.৪ শতাংশ এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে ছিল ২৭ শতাংশ।

 

  • মৃত্তিকা বিশ্লেষণের জন্য ১০টি ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার চালু করার জন্য ২০০১-২০০২ অর্থবছরে ১৩.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
  • শাক-সবজির রপ্তানি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে হরটেক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্যাকেজিংয়ের জন্য ৪ কোটি টাকা সহায়তা দানের প্রস্তাব রাখা হয়।
  • সারের মান নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল সার আমদানি ও বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে সার নিয়ন্ত্রণ আদেশ ১৯৯৯ জারি করা হয়।
  • কৃষি বহুমুখীকরণ ও নিবিড়করণের জন্য ইফাদ-এর সহযোগিতায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
  • কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু পুরস্কার’ পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। • বীজ আইন/৯৩ সংশোধন করে বীজ আইন/৯৭ প্রবর্তন করা হয়।
  • দক্ষতা ও পরিষেবা বৃদ্ধির জন্য বিএডিসি-কে ঢেলে সাজানো হয়।

ঙ) ধান, গম ও সবজির উচ্চ ফলনশীল বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহে দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিপণ্যের লাভজনক দাম বহুলাংশে নিশ্চিত করায় ১৯৯৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ খাদ্য আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সক্ষম হয়।

বিএনপি আমলের ৪০ লক্ষ টন খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে স্বয়ম্ভরতা অর্জন এবং ২ কোটি ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন-এর রেকর্ড পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন আওয়ামী লীগ সরকারের যুগান্তকারী সাফল্য। ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশবাসীর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা তোলে।

 

 কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য : ভিক্ষার ঝুলি ফেলে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত

 

আওয়ামী লীগ আমল ও বিএনপি আমলের খাদ্যশস্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির নিম্নলিখিত পরিসংখ্যান থেকেই দুই আমলের সাফল্য ও ব্যর্থতার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠবে।

Leave a Comment