গোয়েন্দা সংস্থা

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ গোয়েন্দা সংস্থা । যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

গোয়েন্দা সংস্থা

 

গোয়েন্দা সংস্থা

 

গোয়েন্দা সংস্থা

১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত মূলত বাঙালিদের নিয়েই গোয়েন্দা সংস্থা গঠিত হয়েছিল। সামরিক অভিযানের সাথে সাথে সব গোয়েন্দা সংস্থা ভেঙে পড়ে এবং তারা আওয়ামী লীগের অনুকূলের স্বপক্ষ ত্যাগ করে। আমাদের জন্য সহায়ক হতে পারে এমন কোনো গোয়েন্দা সংস্থা গঠনে আমরা সফল হতে পারি নি।

তবে কিছু চেষ্টা চলছিল। ভাষাগত অসুবিধা ও স্থানীয় জনগণের বৈরিতার কারণে এ চেষ্টা সফল হয় নি। ডিআইবি ও এসআইবি’র মতো স্থানীয় বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আমাদের কোনো কাজে আসে নি। পত্র- পত্রিকায় যা প্রকাশিত হতো অথবা আমাদের প্রচারণায় অংশ হিসেবে যা প্রকাশ করা হতো তারা সেগুলোই আওড়াতো।

জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স পূর্ব পাকিস্তানে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের বিরুদ্ধে ভারতের অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ ডিভিশন সৈন্যের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারে নি। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে মিলিটারি ডাইরেক্টরেটে সংরক্ষিত নথিপত্রে এ সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া যাবে।

 

যুদ্ধকালে আমাদেরকে ভারতীয় হেলিকপ্টার গানশিপের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু আইএসআই কিংবা সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর আমাদেরকে এ ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে নি। তাই আমরা ৮ ডিভিশন ভারতীয় সৈন্যের হামলা হবে বলে যে ধারণা করেছিলাম, সে ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি।

ভারতীয় বাহিনী আমাদের সব খবরই পেয়ে যেত। কারণ, মুক্তিবাহিনী ও বৈরি জনগণ আমাদের সম্পর্কে সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্য তাদের সরবরাহ করতো। আমাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও কাঠামোর অভাবে আমরা শত্রুদের নাগালের বাইরে আমাদের কোনো তথ্য গোপন রাখতে অথবা শত্রুদের সম্পর্কে কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারতাম না।

 

গোয়েন্দা সংস্থা

 

সুতরাং আমাদের পরিকল্পনা, দুর্বলতা ও শক্তি সম্পর্কে তথ্য গোপন রাখতে আমাদেরকে পরিকল্পিত উপায়ে ধোকা, প্রতারণা ও বাপ্পার আশ্রয় নিতে হতো। আমরা শেষদিন পর্যন্ত আমাদের শক্তি, দুর্বলতা ও ঘাটতি সম্পর্কে শত্রুকে ধোকা দিতে সক্ষম হই এবং শত্রু আমাদের অভিরঞ্জিত শক্তির ভিত্তিতে তাদের আগ্রাসী পরিকল্পনা তৈরি করে।।

Leave a Comment