আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –জাতিসত্তার সংরক্ষণ ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ সাধন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
জাতিসত্তার সংরক্ষণ ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ সাধন

স্বদেশ ও স্বমণ্ডলে স্বকীয় সত্তায় বাঁচা ও জীবন ধারণের এক মহতী ইচ্ছা ও অদম্য স্পৃহার মধ্য দিয়েই দ্বিজাতিভিত্তিক পাকিস্তান থেকে বাঙালী জাতিভিত্তিক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটেছে। বস্তুত এ দেশের মাটি, মাতৃভাষা ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে উৎসারিত আমাদের হাজার বছরের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও স্বপ্ন-কল্পনার ক্রম বিবর্তনের ধারায় গড়ে উঠা রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের নামই হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশ।
কালের আবর্তে আমাদের এই জাতিসত্তার বিস্তৃত পটভূমি এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল মর্মবাণী এবং চেতনার মূল ভিত্তি যাতে ধসে না পড়ে, তা সতর্কতা ও সচেতনার সাথে রক্ষা করা হবে।স্বাধীনতা ও তার মাধ্যমে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ধ্যান-ধারণার বিমূর্ত প্রতিচ্ছবি। বাঙালী জাতীয়তাবাদ আমাদের সেই হাজার বছরের লালিত স্বপ্নসাধ ও চিন্তা-চেতনার প্রতীক। শত প্রতিকূল পরিবেশে চরম নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েও একে ধরে রাখতে হবে।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি
স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা বাঙালী জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা ও তার বিকাশ সাধনের সুযোগ পেয়েছি। আওয়ামী লীগ বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করার জন্য আত্মনিয়োগ করবে এবং বাঙালী জাতির ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে কোন চক্রান্ত রুখে দাঁড়াবে। বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় ও সরকারী সংস্থার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর উপযুক্ত ভূমিকা পালনের বিষয়ে সর্বপ্রকার ব্যবস্থা করা হবে।

গণমানুষের আত্মচেতনায় উদ্বুদ্ধ সাংস্কৃতিক বিকাশের মাধ্যমে সত্যিকার বাঙালি জাতীয়ভাবোধ যাতে রূপ পায় এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি যাতে গণমানুষের জয়যাত্রার সহায়ক হয়, সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ নির্ধার সাথে কাজ করে যাবে।
