তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল (অক্টোবর ২০০৬-নভেম্বর ২০০৮)

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল (অক্টোবর ২০০৬-নভেম্বর ২০০৮)। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল

(অক্টোবর ২০০৬-নভেম্বর ২০০৮)

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল (অক্টোবর ২০০৬-নভেম্বর ২০০৮)

 

পছন্দের লোকের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে গিয়ে তীব্র গণপ্রতিরোধের সম্মুখীন হয় বিএনপি-জামাত জোট সরকার। বিদায়ের মুহূর্তে তারা ২০০৬ সালের অক্টোবরে সারাদেশে আওয়ামী লীগের ৭০ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করে। বিএনপি-জামাত জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান লংঘন করে দলীয় রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে।

ড. ইয়াজউদ্দিনের পুতুল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপি-জামাত জোটের নির্দেশ মানতে গিয়ে অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের সকল সম্ভাবনা নস্যাৎ করে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পটপরিবর্তন সংঘটিত হয়।

 

ড. ইয়াজউদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে অপসারিত হন। সেনাবাহিনীর সমর্থনে ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে নতুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা; রাজনৈতিক কর্মকাঃ দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকে।

ইতোমধ্যে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার নানা সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা, ভুল-ত্রুটি ও সফলতা নিয়ে প্রায় ২ বছর সময়কাল অতিক্রম করেছে। এই সরকার বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুদক প্রভৃতি পুনর্গঠন করেন। সরকারের আরেকটি ইতিবাচক কাজ হলো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী এ কাজটি সম্পন্ন করায় প্রশংসা অর্জন করে। সরকার নির্বাচনী আইন এবং প্রক্রিয়ারও উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন করে।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমল (অক্টোবর ২০০৬-নভেম্বর ২০০৮)

 

আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের সামনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সংকটজাল ছিন্ন করে উন্নয়নের গতিপথে দেশকে পুনস্থাপিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতীতের সকল গ্লানি, ব্যর্থতা, সংঘাতময় রাজনীতির ঐতিহ্য পেছনে ফেলে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতার অঙ্গীকার ক্ষুধা-দারিদ্রা- নিরক্ষরতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিশাপমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিম্নলিখিত দিনবদলের সনদ উপস্থাপন করছে।

Leave a Comment