উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ

 

উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ

 

বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় যে কোন উন্নয়ন কৌশলের প্রধান দুই লক্ষ্য হবে দারিদ্র্য নিরসন এবং ক্রমান্বয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জন। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আশির দশকের ক্রমাবনতশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে দ্রুত বৃদ্ধি করা।

উহারণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মোট জাতীয় উৎপাদনের বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি হার ছিল ৩.৮ শতাংশ। চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এই লক্ষ্যমাত্রাকে ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল।

যদি এই লক্ষ্যমাত্রা ধরে অগ্রসর হই তা হলেও বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু জাতীয় আরের স্তরে পৌঁছাতে আমাদের লাগবে ২০ বছর, আর থাইল্যান্ডের মাথাপিছু জাতীয় আয়ের স্তরে পৌঁছাতে লাগবে ৬০ বছর। এর থেকেই প্রবৃদ্ধির হার দ্রুততর করার প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দারিদ্র্য নিরসনে, দ্রুত ক্রমবর্ধমান জনশক্তির কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে, পরনির্ভরতা হ্রাসকল্পে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে বেগবান করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন বিকল্প আমাদের সামনে আর খোলা নেই। রিলিফ, ভর্তুকী, অনুদান, সাহায্য- ভিক্ষা দ্বারা সাময়িকভাবে স্থিতিশীলতা অর্জন অথবা দারিদ্র্যের ক্ষণস্থায়ী রোধ হয়তো করা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী পরিসরে তা অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে না।

 

দারিদ্র্য নিরসনের কৌশলকে হতে হবে বহুমুখী, বাস্তবানুগ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ধারার সাথে সংগতিপূর্ণ। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে যে কার্যকর দারিদ্র্য নিরসনের জন্য উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যাবশ্যক। দারিদ্র্য সীমার নীচে নিপতিত অধিকাংশ জনগোষ্ঠী যেহেতু গ্রামাঞ্চলে বাস করে সেহেতু গ্রামীণ অর্থনীতির সামগ্রিক পুনরুজ্জীবন আশু কর্তব্য হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই লক্ষ্যে উন্নত ভৌত অবকাঠামো সৃষ্টি ও উন্নত প্রযুক্তির কৃষির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ঐ সব খাতে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার দারিদ্র্য নিরসনের বাস্তব ভিত্তি সম্প্রসারিত। করবে। প্রবৃদ্ধি-মুখীন এই প্রক্রিয়ায় জনগোষ্ঠীর যে অংশ অবহেলিত থাকবে তাদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। মূলতঃ সমাজের চরম দরিদ্র অংশই ঐ সব কর্মসূচীর আওতায় আসবেন।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে লম খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে বিবেচনায় নিয়ে কষি খাত মুখীন ঋণ ও প্রশিক্ষণ নির্ভর কর্মসংস্থান কর্মসূচী নিতে হবে। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় যথা সরকারী, বেসরকারী পর্যায়ে ঐ সব কর্মসূচীর বাস্তবায়ন সম্ভব এবং কোন ধরনের কাঠামোর মাধ্যমে ঐ সব কর্মসূচী বাস্তবায়িত হবে তা নির্ধারণে দক্ষতা ও উপযোগিতাই হবে সবচাইতে বড় মাপকাঠি।

 

উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ

 

ভবিষ্যতের দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধির জন্য বর্তমান আপৎকালীন কৃচ্ছতা সাধন মানসিকতার মতো সকল দেশবাসীর ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। যদি আমরা আমাদের উন্নয়নের পথের অনিবার্য কৃচ্ছতা সাধন ও ক্লেশকর প্রাথমিক ধাপটি পরস্পরের সাথে ভাগ করে নিতে পারি, তা হলে নিশ্চয়ই সম্ভব দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জগৎ সভায় একটি সম্মানজনক অবস্থানে গিয়ে পৌঁছানো।

Leave a Comment