আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ পাকিস্তান বিমান বাহিনী। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
পাকিস্তান বিমান বাহিনী

পাকিস্তান বিমান বাহিনী
পূর্ব পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে ‘এফ-৮৬’ মডেলের এক স্কোয়াড্রন বিমান ছিল । এসব বিমান ঢাকায় মোতায়েন ছিল। এয়ার কমোডর ইনামুল হক যেভাবে তার সাহসী ও অকুতোভয় বাহিনীকে পরিচালনা করেছেন তা সত্যি প্রশংসনীয়। প্রতিদিনই এসব জঙ্গিবিমান উড্ডয়ন করতো এবং সংখ্যায় বিশাল শত্রু বিমানের প্রচুর ক্ষতি করতো। ভারতীয় বিমানকে বরাবরই দৌড়ের ওপর রাখতো।
বিমান ভূপাতিত হলে স্থানীয় লোকজনের হাতে নিহত হতে হবে-এ কথা জেনেও আমাদের পাইলটরা শৌর্য-বীর্যের সাথে আকাশে উড্ডয়ন করেছেন এবং কেউ কেউ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।আমাদের যেসব পাইলট প্যারাস্যুটের সাহায্যে অবতরণ করেছেন বাঙালিরা তাদেরকে কেটে টুকরো টুকরো করেছে। তাদের কেউ ফিরে আসেন নি।
অন্যদিকে, ভারতীয় পাইলটরা প্যারাস্যুটের সাহায্যে অবতরণ করলে তাদেরকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে ভারত-অধিকৃত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হতো। কখনো কখনো আমাদের পাইলটদেরকে বিধ্বস্ত বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করতে হয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে তারা এ কাজ করতেন।
এয়ার কমোডর ইনাম তার স্বল্পপাল্লার রাডারে ভারতীয় সৈন্যদেরকে হেলিকপ্টারে করে মেঘনা নদী অতিক্রম করতে দেখেন এবং এ ঘটনা আমাকে অবহিত করেন। সময়মতো এ সংবাদ পেয়ে সাদউল্লাহর ব্রিগেডকে আগঞ্জ থেকে ভৈরব বাজারে এগিয়ে যাবার নির্দেশ দিই।
এভাবে ভারতের হেলিকপ্টারবাহিত সৈনারা ঢাকা ও আমাদের অগ্রবর্তী অবস্থানের মাঝে আটকা পড়ে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, ঢাকা বিমানক্ষেত্র এতো ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে, ৬ ডিসেম্বরের পর এখান থেকে আমাদের কোনো জঙ্গিবিমান উড্ডয়ন করতে পারে নি।

এ কারণে গোটা পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে ভারতীয় জঙ্গিবিমান একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে। আত্মসমর্পণের আগে আমরা আমাদের কিছু সংখ্যক পাইলটকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিই এবং বিমান বাহিনীর অবশিষ্ট সদস্যদের ঢাকার প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত করি।
