পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

বার্মার যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে। ১৪তম আর্মি কমান্ডার জেনারেল স্লিমকে নাইট এবং তার তিনজন সেনা কমান্ডার ও কিছু সিনিয়র অফিসারকে পুরস্কার দেওয়া হয়। একই দিনে একজন ভারতীয় অফিসার এবং আরো একজন ভারতীয় ভাইসরয় কমিশন্ড অফিসার (ভিসিও)-কেও পুরষ্কৃত করা হয়।

ভারতের ভাইসরয়ের কাছ থেকে একজন ভারতীয় অফিসারের যুদ্ধের জন্য পুরস্কার হিসেবে পদক প্রাপ্তি এক বিশাল সম্মানের ব্যাপার। ১৪তম আর্মি থেকে আমিই ছিলাম সেই ভারতীয় অফিসার যাকে এই সম্মান দেওয়া হয় এবং যতো দূর মনে পড়ে সুবেদার মান বাহাদুর থাপা ভিসিওকেও মনোনীত করা হয়।

ভারতের সবচেয়ে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার মেহের সিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডমিরাল মাউন্টব্যাটেন পদকগুলো ভাইসরয় লর্ড ওয়াডেলের কাছে হস্তান্তর করেন, তিনি নিজ হাতে এসব পদক পিন দিয়ে আমাদের বুকে এঁটে দেন।

এরপর লর্ড মাউন্টব্যাটেন যখন জাভা পৌঁছালেন, তাকে ৫ম ভারতীয় ডিভিশন গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ গার্ড গড় অনারে নেতৃত্ব আমি দিই ‘ফৌজি আকবর’-এ সংবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালের ২৫শে মে।

পূর্ব এশিয়ার সর্বাধিনায়ক অ্যাডমিরাল মাউন্টব্যাটেন যখন নেদারল্যান্ডের ইস্ট ইন্ডিস সফরকালে বাটাভিয়া সফর করেন, সেখানে বিমান বন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান মেজর নিয়াজি, এমসি, গ্রাম বালো-খেল, ডাকঘর- মিয়ানওয়ালি, পাঞ্জাব। মেজর নিয়াজি রাজপুত রেজিমেন্টের ৪র্থ ব্যাটালিয়ন আয়োজিত গার্ড অব অনারের কমান্ডার ছিলেন।

অ্যাডমিরাল মাউন্টব্যাটেন মেজরের প্রশংসা করেন তার চৌকস উপস্থিতির জন্য এবং যুদ্ধে তার বীরত্ব সম্পর্কে তিনি খোঁজ-খবর নেন। মেজর নিয়াজি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১১ বছর আগে, তিনি পশ্চিম মরুতে ৫ম ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করেন, যতোদিন না তাদেরকে বার্মা ফ্রন্টে স্থানান্তর করা হয়।

১৯৪৩ সালে সামরিক রিপোর্টে তার কথা উল্লেখ করা হয় এবং কোহিমার জঙ্গলে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন ও নেতৃত্ব দানের জন্য তাকে ‘মিলিটারি ক্রম মেডেল প্রদান করা হয়। তিনি এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘ডি’ কোম্পানির, যেটা ব্যাটালিয়নের দুটি মুসলিম কোম্পানির একটি।

 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

 

মেজর নিয়াজি গত বছর সুরাবায়া পৌঁছান এবং এমন একটি অভিযানে অংশগ্রহণ করেন যার ফলে এ শহর সশস্ত্র দস্যুমুক্ত হয়। এরপর তার ব্রিগেড বাটাভিয়ায় স্থানান্তরিত করা হয় যেখানে থেকে তারা বান্দুং-এ শরণার্থীদের জন্য খাদ্য বোঝাই করা কনভয় পাহারা দিয়ে পৌঁছে দেন।

Leave a Comment