আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বৃহত্তর ঐক্য ও যুগপৎ আন্দোলন । যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বৃহত্তর ঐক্য ও যুগপৎ আন্দোলন

প্রিয় কাউন্সিলার ও ডেলিগেট ভাই-বোনেরা,
১৫ দলীয় জোট, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের স্বৈরাচার বিরোধী এবং জনতার অধিকার আদায়ের সংযামী কাফেলায় ৮৩-র শেষ দিকে বি.এন.পি-সহ ৭ দল শরীক হলো। যুগপৎ আন্দোলনের বৃহত্তর স্বার্থে ১৫ দল ও ৭ দল অভিন্ন জাতীয় নারী ৫ দফা প্রণয়ন ও গ্রহণ করল।
১৪১৫ দলের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো বিশাল জনসভা। ঐদিনই ঘরোয়া রাজনীতির বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার ও প্রকাশ্য রাজনীতির ঘোষণা প্রদান করে।
উল্লেখ্য যে, সরকারী ভাষায় ও সামরিক আইনে ঘরোয়া রাজনীতির কথাটি থাকলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃত শুরু হতেই সামরিক আইনের বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যে জনসভা করতে থাকেন। প্রকাশ থাকে যে তথাকথিত ঘরোয়া রাজনীতির আমলেই ১লা নভেম্বর ১৫ ও ৭ দলের আহবানে সারা দেশে হরতাল পালিত হয় এবং ১৪ই নভেম্বর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
২৮শে নভেম্বর সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের যুগপৎ কর্মসূচী ঘোষনা করে ১৫ দল এবং ৭ দল।২২শে নভেম্বর ১৫ দলের উদ্যোগে শেখ হাসিনার পেতৃত্বে শিবপুর থেকে মালি পদযাত্রা (লংমার্চ) পরিচালিশা। এমনিভাবে আন্দোলন বেগবান, গেল নতুন মাত্রা।
এলো ২৮শে নভেম্বর পরিবারে সামনে অবস্থান ে উপর বিনা প্ররোচনায় চালানো হলো তলী, টিয়ার পাসে, লাঠিচার্জ। ২৯শে অে মতোঘর সাধাদেশে সরকারী শ্বেত সন্ত্রাসের বিষয়ে স্ফূর্ত হরতাল পালিত হলো। ২৯শে বিপ্লবী শেখ হাসিনাকে গৃহবন্দী করা হলো।
তবে ভোরেী বেগম আইজি ৰাজমান। ও জননেত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। একই সাথে আও হোসেন, বেগম সাজেদা চৌধুরী, সিন আৰু, তোফায়েল আহম্মদ মোঃ নাসিমের বিরু যেভারী পরোয়ানা জারী হলো ও তাদের গৃহাণী লানো হলো
মানায় মায়ের হলো। করে সরকার ইসলামিক সম্মেলনের আয়োজ ১১ই ডিসেম্বর তারিখে এরশাদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেন। তাঁর নিযুক্ত বিচারপি বিনাম নিলেন। শেখ হাসিনাসহ নেতৃবৃন্দের অন্তরীপ আদেশ প্রত্যাহার করা হলো।
এরই মধ্যে সরকার উপযাচক হয়ে সংলাপের কথা বলতে লাগলেন। উদ্দেশ্য ছিল, আন্দোলনের তীব্র ম্বর বিজয় দিবসের সমাবেশে শেখ হাসিনা বললেন, ‘আলোচনার পরিবেশ সরকারকেই সৃষ্টি করতে হবে। ১৫ দল ও দলের পূর্বঘোষিক হুনাতালের কর্মসূচী পিছিয়ে দেয়া হলো। ৩০শে ডিসে
হতে সংলাপ শুরু হবে এবং একই দিন এরশাদ ও খালেদা জিয়ার মধ্যে একটি অনির্ধারিত বৈঠকও অনুচিত ।
বাংলাদেশের মাটি হতে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচার উৎখাতের জাতীয় – সে নতুন উদ্যম ও তীব্রতা গেল। ওরা জানুযারী পূর্বঘোষিত নিয়মিত সাধা আইন তুলে নেওয়া হলো। কিন্তু রাজনীতি নুযারী ১৫ দল থেকে বলা হলো- জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্যই সংলাপের কথা বলা হচ্ছে।
অন্যদিকে একই দিনে সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনকে সামরিক আইনের আওতায় কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই চাকুরী থেকে অপসারিত করা হলো। এর পরবর্তীতে সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি কে. এম. সোবহানসহ ৩ জন বিচারপতিকে চাকুরীচ্যুত করা হয়।
১০ই জানুন আমরা ঘোষণা করলাম প্রকাশ রাজনৈতিক অধিকার ছাড়া সংলাপে মাথো না। ১৭ই জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত হলো ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিরাট সমাবেশ ও মিছিল।
১৯শে আনুমারী ১৫ ৩ ীয় কাটে উপজেলা পরিষদ নির্বাচमানালো। ২২শে মানুযারী এরশাদ সাহেব বললেন, নির্ধারিত তারিখেই উপজেলা নির্বাচন হবে। ২৪শে জানুযারী গণ-অ পালন করা হলো। বাধা এল পুলিশের কাছ থেকে। পুলিশ মাইক কেড়ে নিল, শাঠিচার্জ করান, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ কাল এবং শতাধিক কর্মীকে গ্রেফতার কাল। २ আনুযারী ১০ দল ঘোষিত উপজেলা নির্বাচন কর।
অন্যদিকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আধারায় ও নয়া উপনিবেশবাদী বাইরে তাদের তল্পীবাহকদের দিয়ে নতুন বড়ায়ে লিপ্ত হয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি অ ফিরিয়ে নিতে তারা জাতির জনক বংগবন্ধুর হত্যাকারী ফারুক-রশীদকে নিয়ে নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়।
রশীদের বেজাইনী অস্ত্র আমদানী হয়ে পড়লে সমগ্র জাতি সোচ্চার প্রতিবাদে ও শিকারে ফেটে পড়ে এখানে বলে রাখা ভাল যে, সেই বেআইনী অস্ত্র আমদানীর ব্যাপারটি যে ক্ষমতাসীন চক্র ও তাদের বারুদের সাজানো ব্যাপার ছিল, তা আজ সুস্পষ্ট।
ফারুক-রশীদের অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপসত্ত্বেও বর্তমান শাসকগোষ্ঠি তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করছে। আসলে ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫-এর ঘটনার লক্ষ্য যে কত সুদূর প্রসারী ছিল, ও ক্ষমতার বাইরের সংক্রামকারীদের ঐকা থেকে আজ তা সহজেই অনুমেয়।
আমরা ১৫ দল ও ৭ দল উপজেলা নির্বাচন বর্জনের উদ্দেশ্যে সভা-সমাবেশ করতে থাকি এবং ১৫ই ফেব্রুয়ারী দাবী দিবস পালনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচন শুধু বর্জনই নয়, প্রতিহত করার কর্মসূচী ঘোষণা করি। এবারও ১৫ দল ঐক্যবদ্ধভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারী পালন করল।
অবশ্য একটা কথা বলে রাখা ভাল যে, বিভিন্ন দিবস আসলে যেমনি ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী থাকত, তেমনি পৃথক দলীয় কর্মসূচীও পালন করা হোত। এদিকে একুশে ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর প্রতি জনতার ঘৃণা প্রকাশ পেল।
সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠা নবগঠিত রাজনৈতিক দলের অন্যতম নেতা মিজান চৌধুরী শহীদ মিনারে জনতার দ্বারা লাঞ্ছিত হলেন। সরকারী গুণ্ডাবাহিনী প্রতিশোধ নিতে গিয়ে লোঁ, বোমাবাজি করে সন্ত্রাস সৃষ্টি করল। তাদের সন্ত্রাসের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও রেহাই পেলেন না। গুণ্ডাদের হাতে নাজেহাল হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষক। এ ঘটনা সারা দেশের মানুষের মনে ঘৃণার সঞ্চার ক।
২৪শে ফেব্রুয়ারীতে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের তারিখে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। ২৮শে ফেব্রুয়ারীতে ঢাকায় ছাত্র সমাজের এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল হলো। এ মিছিলকে কেন্দ্র করে।
স্বৈরাচার তার ফ্যাসিবাদী চরিত্রের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ট্রাক চালিয়ে মিছিলে হামলা করে। ট্রাবেনা ডাকার তলায় তারা পিষ্ট করে হত্যা করল সেলিম আর দেলোয়ারকে ছাত্রলীগের দুইজন নেতাকে। সারা সভ্য দুনিয়া অগ্নিত হয়ে গেল। প্রতিবাদের ঝড় উঠল সারাদেশে।
সামরিক শাসনের এহেন জঘন্য চরিত্র প্রতিটি বিবেকসম্পন্ন মানুষের মনে দারুণ ক্রোধ ও ঘৃণার সঞ্চার করল। পরদিন এহেন নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকগণ যৌথভাবে এক অভূতপূর্ব মিছিল বের করল।
১লা মার্চে পালিত হল সারা দেশে হরতাল। ঢাকায় শুলা চলল। নিহত হলো একজন রাজনৈতিক কর্মী। বৃহত্তর অন্দোলনের ডাকে শ্রমিক সমাজ এগিয়ে এলো। আদমজীর শ্রমিক নেতা তাজুল ইসলাম নিহত হলেন স্বৈরাচারের ভাড়াটিয়া গুণ্ডা বাহিনীর হাতে।
মানুষের জীবনের মূল্য কমে গেল।। দুঃশাসনের বেড়াজালে আটকে পড়া মানুষ তবু মুক্তির আকাংখায় উজ্জীবিত। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কড়াইয়ের মত হয়ে উঠল।
শাসকগোষ্ঠী জনতার উত্থানে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল। গৃহবন্দী হলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আরো অনেকে। আওয়ামী লীগ নেতা জনাব আবদুল মান্নান গ্রেপ্তার হলেন। ছাত্রীরা প্রতিবাদের মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে লাঞ্ছিতা হলেন পুলিশের হাতে। বিরোধী জোটসমূহ ৫ই মার্চ জাতীয় শোক ও ২৪শে মার্চ কালো দিবস পালনের ডাক দিল।
ওরা মার্চে প্রতিবাদের আরেক নতুন নজির স্থাপিত হলো। বাংলাদেশ গেমস ৮৪তে অংশগ্রহণকারী এথলেটসের কালো ব্যাজ ধারণ করে মাঠে নামলেন। তাঁরা শ্রদ্ধা জানালেন গণ-আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি আর তবে ঘৃণা জানালেন স্বৈরশাসনের প্রতি।
এদিকে দেশের সব অঞ্চলে নির্বাচন প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে থাকলেন। ৫ই মার্চ সারাদেশে পালিত হলো জাতীয় শোক দিবস। বিভিন্ন স্থানে জনতা নির্বাচনী পোষ্টার পুড়িয়ে ফেলল। হামলা চালালো ছাপাখানায়। এমনিতর অবস্থায় গণতন্ত্রকামী মানুষ পালন করল ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। জনতা নতুন শপথে বলীয়ান হলো।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দৃঢ়তা আর তীব্রতার মুখে শাসকগোষ্ঠী পশ্চাদপসরণ করল। অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেল ১৮ই মার্চে। একই দিনে ১৫ দলের সমাবেশ শেষে মিছিলে পুলিশের হামলা হলো। আহত হলেন মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মিসেস রওশন আর চৌধুরী।
২৪শে মার্চ কালো দিবস পালিত হলো। ২৬শে মার্চ পুনরায় নতুন শপথ, নতুন উদ্দীপনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সমগ্র জাতি পালন করল মহান। স্বাধীনতা দিবস।
৮ই এপ্রিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল সংলাপে যোগদান করেন। ১১ই এপ্রিল জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দল সংলাপে অংশ গ্রহণ করেন। আলোচনার শুরুতে ১৫ দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা অন্য যে কোন বিষয়ে। আলোচনার আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ছাত্রনেতাদের
দণ্ডাদেশ বাতিল এবং শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের উপর আরোপিত বিধি-নিষেধ প্রত্যাহাতে বলিষ্ঠ নারী উত্থাপন করেন এবং উপরোক্ত দাবী দুটি মেনে নেওয়ার পরই শেখ হাসিনাসহ ১৫ দলের নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা প্রোকামেশনের মাধ্যমে সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং সর্বাগ্রে স সুস্পষ্ট নাবী উত্থাপন করেন। সংলাপে এরশাদ সাহেব নীতিগতভাবে সামরিক আইন প্রত্যাহারের ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেন।
১১ই এপ্রিল এরশাদ ও খালেদা জিয়া খোলাখুলি মত বিনিময় করেন এবং সংলাপের এক পর্যায়ে এ দলের পক্ষ থেকে ৩৩ দফা দাবী উত্থাপন করা হয়। ৭ দলের পক্ষ থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহারের প্রশ্নে প্রোকামেশন প্রস্তাবের নিরোধিতা করা হয় এবং সামরিক আইনের প্রাচ্ছন্ন আবরণ রেখে সর্বাগ্নে সংসদ নির্বাচনের দারী করা হয়।
১৫ দল ৩ দ দলের সাথে সংলাপের এক পর্যায়ে এরশাদ সাহেব স্থগিত সংবিধানের কথা ভুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সংলাপেনা ধারাবাহিকতা ব্যাহত করেন। ১৬ই এপ্রিল এরশাদ সাহেব বললেন, সংলাপের কাঠামো স্থগিত সংবিধানের বাইে যেতে পারে না।
এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ১৫ দল বলল, রাষ্ট্রপতির বকবো পুরানো চিন্তার প্রতিফলন ছে মাত্র। একই দিনে শেখ হাসিনা বললেন, ৫ দফা দাবী না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে। অন্যদিকে সংলাপ দ্রুত শেষ করে পূর্বঘোষিত ২৭শে মে নির্বাচন দেয়া হোক।
প্রকাশ থাকে যে, এরশাদ সাহেব ইতিপূর্বেই ২৭শে মে একই দিনে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৫ই এপ্রিল শেখ হাসিনা একই দিন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ‘আমাদের দাবী অনুযায়ী শুধু সংসদ নির্বাচন হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব
১৭ই এপ্রিল যথাযোगानान দিবস পালিত হয়। মুজিবনগরের আম্রকাননে সমাবেশে আমাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করলেন, ‘সংলাপের পাশাপাশি আন্দোলন অব্যাহত থাকবে করেন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সংলাপের নামে নতুন করে বড়যন্ত্রের স্থাপ বুনা হচ্ছে, যদিও সংলাপের এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল বুঝিবা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু না, তা আর হলো না। নানা কূট যুক্তি তুলে এরশাদ সংলাপকে বার্থ করে দিলেন। বস্তুতঃ প্রথম থেকেই শাসকগোষ্ঠী চাতুর্যের আশ্রয় নেয়। তারা জনতাকে বিভ্রান্ত করার জনাই সংলাপের অবতারণা করলেন। জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সংলাপের নামে কালক্ষেপণ শুরু করলে ৯ই মে ১৫ দল সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল ।।
১০ই মে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচী নিয়ে ১৫ দল ও ৭ দলের মধ্যে আলোচনা হয়। ১২ই মে ভে। এরশাদ নতুন করে ঘোষণা কললেন, চলতি বৎসরের শীত মৌসুমে সংসদ নির্বাচন দেওয়া হবে। ১৮ই মে ১৫ ও ৭ দল যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসাবে ২০শে মে সারা দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ডাক দেয়। ২০শে মে সমাবেশ থেকে ১৫ দল ঘোষণা করলো- জাতীয় সংসদই ঠিক করবে দেশ কিভাবে চলবে।
সংগ্রামী ভাই ও বোনেরা,
বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে বিশ্ব গণতান্ত্রিক শান্তিকামী ও প্রগতিশীল শক্তিসমূহের সংহতি এবং বিশ্বজনমত সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২৪শে মে আফ্রো-এশীয় গণ-সংহতি পরিষদের ৬৪ কংগ্রেসে যোগদানের উদ্দেশ্যে সভানেত্রী আলজিয়ার্সে গমন করেন।
আলজিয়ার্সে তিনি আরব বিশ্ব তথা তৃতীয় বিশ্বের দুইজন অন্যতম রাষ্ট্রনায়ক আলজেরিয়া রাষ্ট্রপতি সাদলী বেনজাদীদ ও পি,এল,এ, প্রদান আরাফাতের সাথে মত বিনিময় করেন। আলজিয়ার্স সম্মেলনে শেখ হাসিনা বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সংগ্রামের সাথে বাংলাদেশের জনগণের একাত্মতা ঘোষণা করেন।
বিভিন্ন সংবর্ধনার জবাবে তিনি গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তির ঐকা আরো জোরদার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আলজিয়ার্স থেকে পবিত্র হজ্ব পালন শেষে ১০ই জুন তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৫ই জুন ১৫ দলের সভায় যুগপৎ আন্দোলনের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে অভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৫শে জুন আপতো আয়োজিত সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য সুদৃঢ় করারা আহ্বান জানান।
পি,এল,এ, প্রধান ইয়াসির আরাফাতের আমন্ত্রণে সংক্ষিপ্ত সফরে শেখ হাসিনা তিউনিসিয়া সফরে যান। সেখানে পি.এল.ও, সদর দফতরে আরাফাত-হাসিনা বৈঠকে জনাব ইয়াদির আরাফাত বঙ্গবন্ধু হত্যার তীব্র নিন্দা করেন ।
এই জঘন্য হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একই সফরের সময় তিনি আরব লী মহাসচিব চাদলী ফ্রিকের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। আরব লীগ মহাসচিবও বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে আরাফাতের অনুরূপ মত ব্যাক করেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
২৯শে জুন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বি.বি.সি-র সাথে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিরাজমা অবস্থা এ সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আমরা চাই আনার সুষ্ঠু নির্বাচন, যেখানে সরকারের পক্ষে হস্তক্ষেপ থাকবে না।
‘ ৪ঠা জুলাই ১৫ দল ১০ই জুলাই সারা দেশে বিক্ষোভ দিবস পালনের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক ১০ই জুলাই সারা দেশে বিক্ষোর দিবস পালিত হয়। ১৫ দল প্রতিরোধ সপ্তাহ ও নারী দিবস পালনের আহ্বান জানিয়ে তার বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করে।
এদিকে সংবাদ পরের ধর্মঘট শুরু হয়ে যায় এবং এতে করে আন্দোলনের প্রচার কাজ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয় ও আন্দোলন। সামরিকভাবে হলেও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এমনিতর অবস্থায় ১০ই আগস্ট আন্দোলনের পৃষ্ঠে ছরিকাঘাত করে রাতের আঁধারে এরশাদের মন্ত্রী সভায় যোগ দিলেন কোরবান আলী এবং জনদলের যুগ্ম-সম্পাদক হিসাবে যোগদান করেন মোহাম্মদ হানিফ। পরবর্তীতে মোহাম্মদ হানিফ নিজের ভুল বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন।
আন্দোলনরত মানুষ বিস্মিত ও হতাশ হলো। ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ম মৃত্যুবার্ষিকী গভীর শোক এবং শপথের মধ্য দিয়ে পালিত হলো। জাতীয় শোক দিবসের অংশ হিসাবে ১৬ই আগষ্ট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল জনসভা।
২০শে আগষ্ট তারিখে ১৫ দলীয় ও ৭ দলীয় জোট ২৭শে আগষ্ট সারাদেশে হরতাল পালনের ডাক দিল। উত্ত জোটের যৌথ উদ্যোগে ২১শে আগষ্টে পালিত হলো গণবিক্ষোভ দিবস। ২৭শে আগষ্ট সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্ত অর্থদিবস
হরতাল পালিত হলো। আন্দোলন আর সংগ্রাম চলল নিরবিচ্ছিন্নভাবে, হলো দিনে দিনে তীব্রতর। ২৭শে সেপ্টেম্বর পূর্ণ দিবস সর্বাত্মক হরতালের কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে এলো ১৫ দল ও ৭ দলীয় ঐক্যজোটসহ সকল গণতান্ত্রিক শক্তি।
সরকারী ‘দল’ হরতাল প্রতিহত করার হুমকী দিল। তারা সারা দেশে এক সন্ত্রাসমূলক পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াস পেল। সরকারী প্রশাসন ও জনদলীয় গুণ্ডাবাহিনীর ব্যাপক সন্ত্রাসের মুখের সমগ্র দেশে সফল হরতাল পালিত হলো।
রাজধানী ঢাকা, কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে গুলী, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হলো শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর। প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ার পুলিশের গুলী ও জনদলীয় গুণ্ডাবাহিনীর সশস্ত্র হামলায় নিহত হলেন ৪ জন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ রেডনেস সমিতির সহ-সভাপতি প্রখ্যাত আইনজীবী, সমাজসেবী ও জননেতা ময়েজ উদ্দিন আহমদ হরতালের সময় মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নির্মমভাবে নিহত হলেন সরকারী গুণ্ডাবাহিনীর হাতে তার নিজের শহর কালীগঞ্জে।

একই দিনে স্বৈরাচারের বুলেট ও বেয়নেটে প্রাণ হারায় ডিভাস আর স্বপন। গুলীতে মারাত্মকভাবে আহত রমিজ পরদিন হাসপাতালে মারা যায়। তাদের প্রাণ বিসর্জনে গণমানুষের স্বৈরাচার ও সামরিক শাসন থেকে মুক্তির লড়াই পেল নূতন প্রাণ। জননেতা ময়েজ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশ গর্জে উঠে।
জনদলের তথাকথিত নেতা গণ-ধিকৃত মাহবুবুর রহমান জনদলীয় সন্ত্রাসের সমর্থনে সাফাই গাইতে গিয়ে ফাঁস করে দিলেন আসল ঘাটি । ২৭শে তারিখে ভারা যা করেছে, তা এরশাদের নির্দেশেই করেছে। ২৭শে সেপ্টেম্বর-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঘৃণা আর বিকার হতে
মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাবার অপকৌশল হিসাবে জেনারেল এরশাদ ২রা অক্টোবর মন্ত্রীসভা ও জনদলের মহাসচিবের পদ হতে মাহবুবুর রহমানকে বিদায় দেন।
