আজকে আমদের আলোচনার বিষয় মুঘল প্রশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতি। এই পাঠটি বাউবি BHI ৩৩০২ ইতিহাস ২ এর “ইউনিট ৩” এর “মুঘল শাসন” অধ্যায়ের একটি পাঠ।
মুঘল প্রশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতি

মুঘল প্রশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতি
মুঘল শাসন ব্যবস্থা
মুঘল শাসন ব্যবস্থায় ‘সম্রাট’ ছিলেন সকল ক্ষমতার উৎস। প্রকৃতপক্ষে, তিনি ছিলেন সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী। তিনি একদিকে ছিলেন ধর্মীয় প্রধান, অন্যদিকে রাষ্ট্র প্রধান। এসঙ্গে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ বিচারপতি এবং প্রধান সেনাপতি। বাবুর সর্বপ্রথম ভারতে ‘সুলতান’ উপাধির পরিবর্তে ‘পাদশাহ’ (বাদশাহ) উপাধি নিয়েছিলেন। মুঘল শাসকদের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করতেন যে, ‘পাদশাহ’ হলো সাম্রাজ্যের সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস।
মুঘল আমলে কোন সম্রাটই ‘খলিফা’কে প্রভু বলে মেনে নেননি। সুলতানি আমলে একমাত্র আলাউদ্দিন খলজী ব্যতীত অন্য সকল সুলতান খলিফার আনুগত্য স্বীকার করেছিলেন। মুঘল শাসন ‘ভারতীয় শাসন’ না হলেও আকবরের শাসনামলে ভারতীয় জাতীয় শাসনের যে ভিত্তির সূত্রপাত হয়েছিল, সে সম্পর্কে সকল আধুনিক ঐতিহাসিক একমত।
একথাও সত্য যে, মধ্যযুগের ভারতবর্ষে মুঘল প্রশাসনেই সর্বপ্রথম প্রাচীন ভারতীয় শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে বহিরাগত প্রশাসন ব্যবস্থার সমন্বয়ে অধিক জনকল্যাণকামী ও সহিষ্ণু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় ।
কেন্দ্রীয় প্রশাসন
কেন্দ্রীয় প্রশাসন পরিচালনায় সম্রাটই ছিলেন প্রধান ব্যক্তি। তিনি ছিলেন সকল ক্ষমতার উৎস। যদিও তাঁর মন্ত্রীপরিষদ ছিল, তথাপি তিনি তাঁদের পরামর্শ গ্রহণে বাধ্য ছিলেন না। তবে কেন্দ্রীয় শাসন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন বিভাগ ছিল। সেসব বিভাগের প্রশাসকগণ শাসন পরিচালনায় সম্রাটকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা প্রদান করতেন।
উজির বা ভকিল :
সম্রাটের পরেই উজিরের স্থান ছিল। প্রকৃতপক্ষে তিনিই ছিলেন সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী । রাজস্ব এবং অর্থ বিভাগের যাবতীয় কার্যকলাপের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল। যেহেতু তাঁর ওপর রাজস্ব বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত ছিল সেহেতু তিনিই শাসন বিভাগগুলোর ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। সকল আদেশ-নির্দেশ তিনি সম্রাটের নামে জারি করতেন।
প্রকৃতপক্ষে উজিরের দক্ষতার ওপর মুঘল প্রশাসনের দক্ষতা নির্ভরশীল ছিল। উল্লেখ্য, আকবরের সময় উজিরকে দেওয়ান নামে অভিহিত করা হতো ।
মীর বক্সী :
কেন্দ্রের সামরিক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তাকে মীর বক্সী বলা হতো। তাঁর প্রধান কর্তব্য ছিল সৈন্যবাহিনীর জন্য সৈন্য সংগ্রহ করা, তাদের দেখাশোনা করা, সকলের যাতে বেতনের বন্দোবস্ত করা, যুদ্ধের সময় সৈন্য সম্বন্ধে পুন্নখানুপুন্নখভাবে সম্রাটকে সংবাদ প্রদান করা ও সৈন্য এবং মনসবদার প্রভৃতি কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত করা। এসঙ্গে সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণ করা মীর বক্সীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকার নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ এবং অন্যান্য কাগজপত্র সংরক্ষণ করতেন। এতে দেখা যায় মীর বক্সী প্রধানত একজন সামরিক কর্মকর্তা হলেও বেসামরিক প্রশাসনের অনেক দায়িত্ব তাঁকে পালন করতে হতো।
খান-ই-সামান :
মুঘল আমলে সরবরাহ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন খান-ই-সামান। তিনি ছিলেন সম্রাটের সংসারের প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং সামরিক বিভাগের সকল উপকরণ সরবরাহ করার দায়িত্ব প্রাপ্ত রাজকর্মচারী। তাঁর অধীনেই ছিল রাজকীয় কারখানাসমূহ। তিনি সম্রাটের ভ্রমণে ও অভিযানে সঙ্গী হতেন এবং সম্রাটের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের তত্ত্বাবধান করতেন।
যেহেতু তিনি তাঁর কাজের প্রয়োজনে সব সময় সম্রাটের কাছাকাছি থাকতেন সেহেতু তিনি ছিলেন দরবারে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ।
সদর-উস-সুদুর :
সদর-উস-সুদুর ছিলেন ধর্ম ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ত্রাণ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা। তিনি সাহিত্যিক, কবি, পন্ডিত ব্যক্তি, বিজ্ঞানী, আলেম, উলেমা, সুফি-দরবেশ, দুঃস্থ, দরিদ্র, বিধবা, এতিম, নাবালক, কাজী, শিক্ষক প্রমুখকে দান ও উপঢৌকন ইত্যাদি প্রদানের দায়িত্ব পালন করতেন। ধর্মীয় শাস্ত্রে অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দান করা হতো ।
কাজী-উল-কুজ্জাত :
সম্রাটের অধীনে সাম্রাজ্যের বিচার বিভাগীয় প্রধানকে বলা হতো কাজী-উল-কুজ্জাত বা প্রধান বিচারপতি। তিনি হতেন একজন আইনজ্ঞ, ন্যায়পরায়ণ, সচ্চরিত্র এবং নিষ্ঠাবান মুসলমান। তিনি সাম্রাজ্যের হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার পরিচালনা করতেন।
তাঁকে বিচার কার্যে সহযোগিতা করতেন মুক্তি ও মীর-ই-আদল নামে দুজন কর্মকর্তা। কাজী মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতেন, মুক্তি আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করতেন আর মীর-ই-আদিল রায় প্রদান করতেন।
মুহূৰ্ত্তাসিব :
মুঘল প্রশাসনে মুত্তাসিব ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজকর্মচারী। তাঁর প্রধান কর্তব্য ছিল অ- ইসলামীয় বিধানগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এবং জনসাধারণের নৈতিক চরিত্রের উন্নতি সাধনে সচেষ্ট থাকা। এককথায় তিনি ছিলেন জনসাধারণের নৈতিক চরিত্রের তত্ত্বাবধায়ক।
মদ্যপান, জুয়াখেলা ও পতিতাবৃত্তি প্রভৃতি অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ করার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত ছিল এবং প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে ত্বরিত বিচারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন। তাছাড়া বাজারে জিনিসপত্রের বাজারদর তদারক, খাদ্যে ভেজাল বা ওজনে কম ইত্যাদি ধরনের অপরাধ তদন্তের দায়িত্বও তিনি পালন করতেন।
অন্যান্য রাজকর্মচারী :
উল্লেখিত রাজকর্মচারী ছাড়া আরও বহু কর্মঠ ও সুদক্ষ রাজকর্মচারী ছিলেন, যাঁদের নিরলস চেষ্টায় মুঘল প্রশাসন ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। এদের মধ্যে গুপ্তচর বিভাগের ‘দারোগা-ই-ডাকচৌকী’, তোপখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘দারোগা-ই-তোপখানা’, প্রজা-সাধারণের আবেদন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘মীর আরজ’, হিসাব পরীক্ষক ‘মুস্তাফী’, সরকারি বাড়িঘরের তদারককারী ‘মীর-মঞ্জিল’, কেরানি ও সংবাদ লেখক ‘ওয়াক-ই-নবিশ” এবং রাজসভার অনুষ্ঠানের রীতিনীতির তত্ত্বাবধায়ক ‘মীর-তোজাক’ উল্লেখযোগ্য।
প্রাদেশিক প্রশাসন
ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার বলেন, মুঘল আমলের প্রাদেশিক সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো ছিল কেন্দ্ৰীয় সরকারের অবিকল একটি ক্ষুদ্র চিত্র। মুঘল আমলে সকল সম্রাটের শাসনকালে সুবা বা প্রদেশের সংখ্যা এক ছিল না। যেমন আকবরের রাজত্বকালে প্রদেশের সংখ্যা ছিল ১৫, জাহাঙ্গীরের সময়ে ১৭, শাহাজাহানের সময়ে ২২ (১৬৪৮ খ্রি: কান্দাহার হস্তচ্যুত হলে ২১) এবং আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে প্রদেশের সংখ্যা ছিল ২১টি।
শাসনকার্যের সুবিধার জন্য ‘সুবাগুলোকে ‘সরকার’ এবং ‘সরকারগুলোকে ‘পরগণায় বিভক্ত করা হয়েছিল। কতগুলো গ্রামের সমন্বয়ে একটি পরগণা গঠন করা হতো । সুবাদার ছিলেন প্রদেশের প্রধান শাসনকর্তা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্রাটের অনুমতি নিতে বাধ্য ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হতেন এবং প্রদেশে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
সুবাদার পদটি প্রশাসনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় সাধারণত সম্রাটের পুত্র এবং তাঁর বিশ্বস্ত ও উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। তাঁকে প্রশাসনে সহযোগিতা করতেন দেওয়ান, বকসী, সদর, কাজী, ফৌজদার, কোতোয়াল, আমিল, বিতিকচি, পোদ্দার, ওয়াক-ই-নবিশ ও পাটোয়ারী নামক রাজকর্মচারীবৃন্দ।
মুঘল যুগে ভারতের সমাজ ব্যবস্থা
মুঘল যুগে ভারতবর্ষের জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনার দাবি রাখে। কিন্তু মুঘল যুগের রাজদরবারের ঐতিহাসিকগণ অথবা সমকালীন ঐতিহাসিকগণ সমসাময়িককালের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিবরণ লিপিবদ্ধ করেননি। এঁরা প্রধানত সম্রাটদের গৌরবগাথা, রাজসভার জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ যুদ্ধ ও বিজয় অভিযানের কাহিনী লিখে গেছেন।
তাঁরা ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা তথা সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের কথা লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি দেননি। মুঘল সম্রাটদের শাসনামলে বহু বিদেশী পর্যটক, ভ্রমণকারী এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ভারতে এসেছিলেন। তাঁরা সমসাময়িক ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের যে বিবরণ রেখে গেছেন, তা থেকে মুঘল যুগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার মূল্যবান তথ্যের সন্ধান মেলে।
এসব বিদেশী পর্যটকদের বিবরণই এই বিষয়ের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস। এসব পর্যটকদের মধ্যে স্যার টমাস রো, উইলিয়াম হকিন্স, রাল্ফ ফীচ, ফান্সিসকো পেলসার্ট, বার্নিয়ে, ট্যাভার্নিয়ে, মানুচির নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
মুঘল সমাজ জীবন
মুঘল যুগের সমাজ ছিল মূলত সামন্ততান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সমাজে সম্রাটের স্থান ছিল সর্বোচ্চ। তাঁর নিচেই অভিজাত সম্প্রদায়ের স্থান ছিল। বিশেষ সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী এই সম্প্রদায় অর্থ ও সম্পদে বিত্তবান ছিলেন। তাঁরা ভোগ বিলাসে জীবন অতিবাহিত করতে অভ্যস্ত ছিলেন। রাজসভায় যে প্রাচুর্য ও অমিতব্যয়িতা বর্তমান ছিল, অভিজাত সম্প্রদায়ের মধ্যেও তার বিস্তৃতি ঘটেছিল।
মদ্যপান, ব্যভিচার ছিল অভিজাত শ্রেণীর জীবনের একটি প্রধান অঙ্গ। মুঘল রাজদরবার তথা সম্রাট নিজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সব দোষত্রুটি থেকে মুক্ত ছিলেন না। ‘হারেম’ ব্যবস্থা সমসাময়িক যুগের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। আবুল ফজল বর্ণনা করেছেন- সম্রাটের হারেমে পাঁচ হাজার স্ত্রীলোক থাকতো। অভিজাত শ্রেণী নিজ সামর্থ মতো সম্রাটকে এ দিক দিয়ে অনুসরণ করতেন।
জাহাঙ্গীরের সময় পেলসার্ট নামক জনৈক ওলন্দাজ বণিকের বিবরণ থেকে অভিজাতদের চরম চারিত্রিক ও নৈতিক নীতিজ্ঞানহীনতার পরিচয় পাওয়া যায়। অভিজাত শ্রেণীর মধ্যে পরস্পর বিদ্বেষ, ঈর্ষাপরায়ণতা ও ষড়যন্ত্রপ্রিয়তা প্রভৃতি কাজ করেছিল। মুঘল রাজদরবার জাঁকজমক ও বৈভবের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। এরূপ দরবারে নিজেদের মর্যাদা রক্ষার জন্য অভিজাতবর্গ ও পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রত্নালঙ্কারে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন।
অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর স্থান। দোকানদার, ব্যবসায়ী, বণিক, মহাজন প্রভৃতি ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীভুক্ত। এই শ্রেণী সাধারণত মিতব্যয়ী ছিল। নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী তারা জীবনযাপন করতো। এবং ব্যভিচার, মাদকাসক্তি প্রভৃতি থেকে মুক্ত ছিল। ইউরোপীয় পর্যটকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, পশ্চিম উপকূলের বণিকগণ আর্থিক ক্ষেত্রে কিছুটা স্বচ্ছল ছিলেন এবং এরা কিছুটা উন্নত ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করতো।
সাধারণ মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য বা সাচ্ছল্য ছিল না। প্রদীপের নিচের অন্ধকারের মতো রাজদরবারে প্রাচুর্যের সঙ্গে ছিল জনসাধারণের অসীম দারিদ্রতা। সাধারণ মানুষের জীবনে বাহুল্যের কোন স্থান ছিল না। সাধারণ সময়ে ভরণপোষণের অভাব না হলেও দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাবের সময় তাদের দুর্গতি চরম সীমায় পৌঁছতো। ওলন্দাজ পর্যটক পেলসার্টের বিবরণ থেকে সাধারণ মানুষের অবস্থার কিছু পরিচয় পাওয়া যায় ।
তিনি উলে- খ করেন যে, সমাজে এই শ্রেণীর লোক নামে স্বাধীন প্রজা হলেও কার্যত তারা ক্রীতদাসের ন্যায় জীবন অতিবাহিত করতো। এরা হলো শ্রমজীবী, ভৃত্য এবং ছোট দোকানদার। তাদের আয় ছিল সামান্য এবং তাদের কোনরূপ স্বাধীনতা ছিল না। যে গৃহে তারা বসবাস করতো এবং যে খাদ্যদ্রব্য তারা গ্রহণ করতো তাতে সাচ্ছল্যের কোন লক্ষণ ছিল না।
তাছাড়া রাজ কর্মচারীদের উৎপীড়ন তাদের ওপর বেশি ছিল। শাহজাহানের আমল থেকে কৃষকদের অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। ফলে তাদের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে ওঠে।
অর্থনৈতিক জীবন
মুঘল যুগে ভারতবর্ষ প্রধানত কৃষি প্রধান ছিল। কৃষকরা সামান্য জমিতে চাষ করতো এবং তারাই রাজস্বের প্রধান ভার বহন করতো। গম, বার্লি, ধান, বজরা, বিভিন্ন ধরনের ডাল, তুলা ইত্যাদি ছিল প্রধান কৃষিজাত পণ্য। বাংলা ও বিহারে ইক্ষুর চাষ হতো। বাংলায় পাটের চাষও ভালোরকম হতো। পেলসার্টের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, মধ্য ভারত ও যমুনা উপত্যকায় প্রচুর নীলচাষ হতো। এছাড়া কার্পাস ও রেশম এই সময় প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো।
বার্নিয়ের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, এই দুই দ্রব্যের উৎপাদনের জন্য বাংলা এ সময় ভারতের ভান্ডার ছিল। আকবরের রাজত্বকালে জঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষি জমির পরিমাণ বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মুঘল সংস্কৃতি
শিল্প ও সাহিত্য
মুঘল যুগে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ফলস্বরূপ যে নবচেতনার সৃষ্টি হয়েছিল সমকালে তা স্থাপত্য কলা ও সাহিত্যে প্রতিফলন ঘটে। হিন্দু-মুসলমান শিল্প ও স্থাপত্য রীতির সংমিশ্রণে সেকালে এক বলিষ্ঠ শিল্পরীতি গড়ে উঠেছিল। মুঘল সম্রাটগণ ছিলেন শিল্প, স্থাপত্য ও সাহিত্যের উদার পৃষ্ঠপোষক। মুঘল সাম্রাজ্যের নানাস্থানে যে সকল দুর্গ, প্রাসাদ বা অট্টালিকা মুঘল সম্রাটগণ নির্মাণ করেছিলেন তাতে তাঁদের শিল্পরুচির পরিচয় পাওয়া যায়।
মুঘল যুগের প্রথম দিকে স্থাপত্যে বৈদেশিক তথা পারসিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও আকবরের পরবর্তী সম্রাটদের আমলে মুঘল স্থাপত্য ভারতীয় হয়ে ওঠে। এ ব্যাপারে ঐতিহাসিক ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, “আকবরের উত্তরাধিকারীগণের আমলে ভারতীয় স্থাপত্য ও চিত্রশিল্প বৈশিষ্ট্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভারতীয়ত্ব প্রাপ্ত হয়েছিল। তাঁদের অপূর্ব সৃষ্টির মধ্যে বিন্দুমাত্র পারস্য প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না।
বহু প্রভাবে সৃষ্ট মুঘল রীতি তার পূর্বে প্রচলিত শিল্পরীতি অপেক্ষা অনেক শৌখিন এবং অলঙ্কৃত ছিল । প্রাক-মুঘল যুগের বিকাশ ও সরল রীতির তুলনায় সূক্ষ্ণতায় ও অলঙ্করণে তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।” দুর্ধর্ষ বীর তৈমুরের মধ্যে যে শিল্পীসত্তা বর্তমান ছিল বাবুর তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ- বিগ্রহে ব্যস্ত থাকায় তিনি শিল্প সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
তাঁর আত্মজীবনী থেকে জানা যায়, তিনি সৌধ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তিনি অসংখ্য শিল্পী ও কারিগর নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শাসনকাল অত্যন্ত স্বল্প হওয়ায় এবং তাঁর অকাল মৃত্যুর ফলে ভারতবর্ষে এমন কোন শিল্প-সৌধ নির্মিত হয়নি, যার দ্বারা বাবুরের শিল্পানুরাগের প্রকৃত মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
তাঁর নির্মিত সৌধের মধ্যে পানিপথের কাবুলিবাগ মসজিদ এবং সম্বলের জামি মসজিদ এখনও বিদ্যমান। বাবুরপুত্র হুমায়ুন অনবরত যুদ্ধে লিপ্ত থাকার ফলে তাঁর পক্ষে স্থাপত্য শিল্পের প্রতি মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।মুঘল যুগের স্থাপত্য শিল্পের প্রকৃত সূচনা ঘটে আকবরের শাসনামলে। আকবর ছিলেন শিল্প রসিক। দিল্লিতে হুমায়ুনের সমাধি সৌধ, ফতেপুর সিক্রীর প্রাসাদ ও সিকান্দ্রায় নিজের সমাধি সৌধ তাঁর বলিষ্ঠ শিল্পরুচির পরিচায়ক।
পারসিক ও ভারতীয় রীতির সমন্বয়ে মুঘল স্থাপত্য রীতির উদ্ভব হয়। হুমায়ুনের সমাধি সৌধ নির্মাণে প্রথম মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়। শিল্প সমালোচক পার্সি ব্রাউনের মতে, সৌধটি পারসিক পরিকল্পনায় ভারতীয় ব্যাখ্যা অথবা পারসিক সৌধ নির্মাণ রীতির ভারতীয়করণ। ফতেপুর সিক্রীর প্রাসাদও মুঘল স্থাপত্যরীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই প্রাসাদ নির্মাণে আকবর প্রথম লাল রং-এর বেলে পাথর ব্যবহার করেন।
ফতেপুর সিক্রীর বুলন্দ দরওয়াজা বিরাটত্বে ও সৌন্দর্যে অপূর্ব শিল্পসৃষ্টির নিদর্শনস্বরূপ । সম্রাট জাহাঙ্গীর স্থাপত্য শিল্পে বিশেষ অনুরাগী ছিলেন না। তিনি প্রধানত চিত্রকলায় অধিকতর আগ্রহী ছিলেন। তিনি অবশ্য সিকান্দ্রায় আকবরের সমাধি সৌধ নির্মাণ সম্পূর্ণ করেন। তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত ইতিমাদ উদ্দৌলা’র সমাধি সৌধটি স্থাপত্যের ক্ষেত্রে নতুনত্বের স্বাক্ষর বহন করে। এই সৌধটি শ্বেত পাথরে নির্মিত এবং সূক্ষ্ণ কাজ ও অলংকরণে অপূর্ব।
মুঘল চিত্রকলা
মুঘল আমলে স্থাপত্য শিল্পের ন্যায় চিত্রকলায়ও বিশেষ উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল। এক্ষেত্রেও আকবরের সময় থেকেই নতুন এক ঐতিহ্যের সৃষ্টি লক্ষ্য করা যায়। বিদেশী ও দেশীয় ভাবধারার সমন্বয়ে যে নতুন চিত্রকলার উদ্ভব হয়েছিল রুচি ও নৈপুণ্যের দিক দিয়ে তা সার্থক সৃষ্টি। আকবর ব্যক্তিগতভাবে হিন্দু- মুসলমান শিল্পীদের কার্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন এবং সমালোচনা করতেন।
আবদুল সামাদ, মীর সৈয়দ আলি, কারক বেগ, দাদবন্ত, বসোয়ান, সেনিওয়াল দাস এবং তারাচাঁদ এই যুগের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য শিল্পী। চিত্রকলার প্রতি জাহাঙ্গীরের অনুরাগ ছিল। স্যার টমাস রো-র বর্ণনা হতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর সময় হিন্দু শিল্পীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। জাহাঙ্গীরের সময়ে চিত্রকলার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য মুসলিম চিত্রকলায় পারসিক প্রভাব পরিহার।
এই সময় অঙ্কনরীতি চরিত্রগতভাবে সম্পূর্ণ ভারতীয়ত্ব প্রাপ্ত হয়। এ প্রসঙ্গে ড. ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, “An important fact worth mention in Jahangir’s reign is the elimination of Persian influence. The art becomes essentially Indian in character and Indian genius triumphs.” জাহাঙ্গীরের পর চিত্রকলার উন্নতি, বিশেষ উৎকর্ষ লক্ষ্য করা যায় না। আওরঙ্গজেব চিত্রশিল্পের পিছনে অর্থব্যয়কে অপচয় এবং ইসলাম বিরোধী বলে মনে করতেন।
ফলে তাঁর আমলে চিত্রশিল্পের পুরোপুরি অবনতি ঘটে। মুঘল যুগের চিত্রশিল্পের বিষয়বস্তু ছিল দরবার জীবন, রাজকীয় উৎসব, শিকার ইত্যাদি। এ প্রসঙ্গে পার্সি ব্রাউন বলেন, “মুঘল অংকনরীতি ও বিষয়বস্তু ছিল জড়, বিদেশী এবং বিভিন্ন ধারা হতে সংগৃহীত, কিন্তু হিন্দু অঙ্কনরীতি ও বিষয়বস্তু ছিল আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী।”
প্রকৃতপক্ষে, মুঘল চিত্র শিল্পে জনসাধারণের যোগাযোগ ছিল না বললেই চলে। শুধুমাত্র শাসক শ্রেণী ও শাহজাদাগণ ছিলেন এর পৃষ্ঠপোষক। রাজদরবারের বাইরে এর অস্তিত্ব ছিল না বললেই চলে।
সঙ্গীত
শিল্পকলার আর যে বিশেষ দিকে মুঘলরা তাঁদের রসিক মনের পরিচয় দিয়েছিলেন তা হল সঙ্গীত। অন্যান্য কলার ন্যায় মুঘল সম্রাটগণ সঙ্গীতের বিশেষ অনুরাগী ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সঙ্গীত এবং সঙ্গীতজ্ঞরা রাজকীয় সাহায্য পেতেন। তানসেন, সুরদাস, বৈজু, বাওড়া, বাবা রামদাস প্রমুখ মুঘল যুগের সঙ্গীতকার ও সুরস্রষ্টাগণ ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
বাবুর, হুমায়ুন, আকবর,জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, এমন কি রাজত্বের প্রথম দশ বৎসর আওরঙ্গজেব সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন। রাগপ্রধান ভারতীয় সঙ্গীতের চর্চায় মুঘল সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতার ফলে, রাজদরবারের বাইরে সঙ্গীত চর্চার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এক নতুন স্তরে উপনীত হয়েছিল।
শিক্ষা ও সাহিত্য
মুঘল যুগে আধুনিক যুগের ন্যায় শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকলেও মুঘল সম্রাটগণ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে মক্তব, মাদ্রাসা ও টোল স্থাপন পূর্বক শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরবি, ফারসি, সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য সম্বন্ধে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা চলতো। এ সময়ে বহু হিন্দুও ফারসি ভাষা ও সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। উপনিষদ, ভগবদ গীতা, রামায়ণ ঐ যুগে সংস্কৃত হতে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল।
স্ত্রী শিক্ষা সে সময়ে চালু ছিল। রাজপরিবারের যে সমস্ত মহিলা আরবি ও ফারসি ভাষায় যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে বাবুরের কন্যা গুলবদন বেগম, নুরজাহান, মমতাজমহল, জাহানারা, জেবউন্নিসা প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। মুঘল সম্রাটগণের সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা কৃতিত্বের দাবি রাখে। আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ, কবিতা এবং অনুবাদ সাহিত্যের বিশেষ সমৃদ্ধি ঘটেছিল। আকবরের রাজত্বকালে
‘তারিখ-ই- আলফি’, ‘আইন-ই-আকবরী’, ‘আকবরনামা’, ‘মাসির-রহিমী’ প্রভৃতি ঐতিহাসিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিলো। রামায়ণ, মহাভারত এবং অথর্ববেদ তাঁর সময়ে ফারসিতে অনূদিত হয়েছিল। ফৌজি, খিজালী, হুসেন নাজিরী, জামালউদ্দিন উরফি তৎকালে শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
আকবরের শাসনকাল ভিন্ন বাবুরের জীবনস্মৃতি, জাহাঙ্গীরের জীবনস্মৃতি, ইকবালনামা-ই-জাহাঙ্গীরী, মাসীর-ই-জাহাঙ্গীরী, জবদ-উৎ-তোওয়ারিখ, পাদশাহনামা, শাহজাহাননামা, আলমগীরনামা, মুস্তাখাব-উল-লুবাব প্রভৃতি ঐতিহাসিক গ্রন্থ মুঘল যুগে রচিত হয়েছিল।
সারসংক্ষেপ
মুঘল প্রশাসন ছিল মূলত এককেন্দ্রিক। সম্রাটই ছিলেন প্রশাসনের প্রধান ব্যক্তি এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তিনি উজির, মীর বক্সী, খান-ই-সামান, সদর-উস-সুদুর, কাজী-উল-কুজ্জাত, মুহতাসিব সহ বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের সহযোগিতায় রাজকার্য পরিচালনা করতেন। উল্লেখ্য আকবরই মুঘল প্রশাসনের ভিত্তি রচনা করেছিলেন। মুঘল সমাজ সামন্ততান্ত্রিক ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছিল।
সমাজে অভিজাত, মধ্যবিত্ত ও সাধারণ- এই তিন শ্রেণীর লোক বিদ্যমান ছিল। হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রীতির সম্পর্ক ছিল। মুঘল যুগের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। সে সময়ে ব্যবসা- বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সচ্ছল ছিল না। এযুগে সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্প-সাহিত্যে প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়।
সহায়ক গ্ৰন্থপঞ্জী :
১. এ.কে.এম. আবদুল আলীম, ভারতে মুসলিম শাসনব্যবস্থার ইতিহাস, ঢাকা, ১৯৭৬।
2. Iswari Prasad, A short History of Muslim Rule in India. Allahabad, 1970.
৩. আবদুল করিম, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন, ঢাকা, ১৯৮৮।
৪. এ.কে.এম. আবদুল আলীম, ভারতে মুসলিম রাজত্বের ইতিহাস, ঢাকা, ১৯৭৩ ।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :
১। মুঘল কেন্দ্রীয় প্রশাসনে উজিরের দায়িত্ব-কর্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন।
২। মুঘল কেন্দ্রীয় প্রশাসনে মীর বক্সীর ভূমিকা কি ছিল?
৩। কাজী-উল-কুজ্জাত কে ছিলেন? তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্যের বর্ণনা দিন।
৪। মুঘল আমলে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন।
৫। মুঘল আমলে অভিজাত শ্রেণীর সমাজ জীবনের বর্ণনা দিন।
৬। মুঘল আমলের শিক্ষা ও সাহিত্যের বিবরণ দিন।
রচনামূলক প্রশ্ন :
১। মুঘল প্রশাসন ব্যবস্থা আলোচনা করুন ।
২। মুঘল যুগে ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিবরণ দিন।
৩। মুঘল যুগে ভারতের শিল্প ও স্থাপত্যের বিকাশের বিবরণ দিন।
