সমাজকল্যাণ কার্যক্রম

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – সমাজকল্যাণ কার্যক্রম। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

সমাজকল্যাণ কার্যক্রম

 

সমাজকল্যাণ কার্যক্রম

 

  • ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটে মোট বরাদ্দ ছিল। ১০৬.৭২ কোটি টাকা। ২০০১-২০০২ অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭৯ কোটি টাকা। সম্প্রসারিত পল্লী সমাজকর্ম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র ও শহর সমাজসেবা কার্যক্রম- এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ কার্যক্রমকে অগ্রসর করে নেয়া হতে থাকে।
  • ১৯৭৪ সালে শুরু করা সমাজসেবা কার্যক্রমের পঞ্চম পর্বটি দেশের ৩১১টি থানায় বাস্তবায়ন করা হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় ২০০০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৪৬১টি থানায় প্রায় ২০ লক্ষ পরিবারকে ১১৫ কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান ঋণ দেয়া হয় এবং প্রায় ১১ লক্ষ পরিবারকে দেয়া হয় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ।
  • জনসংখ্যা কার্যক্রমে পল্লী মাতৃকেন্দ্রের ব্যবহার প্রকল্পের অধীনে ২০০০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৭.৯ লক্ষ গ্রামীণ মহিলাকে ২১.৩৯ কোটি টাকা সুদমুক্ত ঘূর্ণায়মান ঋণ দেয়া হয়।
  • এই প্রকল্পের আওতায় ৭.৯১ লক্ষ মহিলাকে পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ করা হয়। • শহর সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪৩টি শহরে কার্যক্রম চালু করা হয়।
  • দেশের এতিম শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তাদের পারিবারিক পরিবেশে প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে
  • প্রতিষ্ঠিত ৭৩টি শিশু সদন ও শিশু পরিবার প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে প্রতি বছর ৯,৫০০ জন এতিম ও শিশু উপকৃত হয়।
  • আইন করে প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয় এবং ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আরো ৪টি নতুন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।
  • কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার অব বাংলাদেশ সরকারি আর্থিক সাহায্যে
  • বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক দরিদ্র রোগীদের জন্য সুলভ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে আধুনিক চিকিৎসাসেবা সুবিধা সংবলিত ১০০ বেডের হাসপাতাল নির্মাণ করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ ডিসপেনসারি পরিচালনা করা হয়।

 

  • টানবাজার ও নিমতলীতে বসবাসরত সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের পুনর্বাসন কার্যক্রম ১৯৯১ সালের জুলাই থেকে ২০০০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এই কার্যক্রমের কেন্দ্রে থাকা-
  • খাওয়া, চিকিৎসা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়।
  • সমাজকল্যাণ কমপ্লেক্স: ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন অফিস একই কমপ্লেক্সে স্থাপন করে তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বায়ে ঢাকার আগারগাঁওয়ে এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়।
  • জাতীয় কিশোরী সংশোধন প্রতিষ্ঠান: বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন কিশোরীদের জেলখানায় না রেখে বাংলাদেশ শিশু আইন ৭৪-এর আওতায় শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সংশোধনী কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সংশোধন ও আর্থ-সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের জন্য এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
  • শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য শিল্প উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্প : ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের দ্বারা উন্নতমানের প্লাস্টিক সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করে এর বিক্রয়লব্ধ অর্থের লভ্যাংশ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
  • হয়।
  • শেখ রাসেল দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এতিম, দুস্থ ও ছিন্নমূল শিশুদের লালন-পালন করে তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায় এই কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়।
  • বেবি হোম স্থাপন : খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় সদরে ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি
  • বেবি হোম নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
  • আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও উন্নয়ন : মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মসূচিসমূহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগীয় সদরে ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা বায়ে ৩টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়।
  • বান্দরবান জেলায় সরকারি শিশু পরিবার প্রকল্প স্থাপন : পার্বত্য এলাকার অসহায় এতিম ছেলেমেয়েদের লালন-পালন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়।
  • . মুজিব নগর কমপ্লেক্সে সরকারি শিশু পরিবার স্থাপন : এতিম, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এতিম ছেলেমেয়েদের স্নেহ, ভালোবাসা ও যত্নের সাথে লালন-পালন ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
  • কমিউনিটি বেইজড প্রিভেনশন অভ জুভেনাইল ডেলিকুয়েন্সি : শিশু-কিশোরদের অপরাধ সম্পর্কে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মা-বাবা ও সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য টঙ্গীতে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
  • অ্যাপ্রোপ্রিয়েট রিসোর্সেস ফর ইমপ্রভিং সিটেস চিলড্রেন এনভায়রনমেন্ট (এরাইজ) – রাস্তায়
  • বসবাসরত, পরিত্যক্ত, আশ্রয়হীন ও দুর্দশাগ্রস্ত পথ-শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্থ পরিবেশে বসবাে সাহায্য করা ও তাদের পুনর্বাসনের জন্য দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরে ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
  • সম্প্রসারিত পরী সমাজকর্ম দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩১১টি উপজেলায় কার্যালয় স্থাপনের ম 3 পল্লীর দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানরত ভূমিহীন কৃষক, বেকার যুবক, দুস্থ মহিলা, বিদ্যালয়-বহির্ভূত কিশোর ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থ- সামাজিক উন্নয়নসহ তাদের স্ব-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করা হয়।

 

সমাজকল্যাণ কার্যক্রম

 

  • বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত নিবন্ধীকৃত এতিমখানার জন্য ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট কার্যক্রম সারাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত নিবন্ধীকৃত এতিমখানার নিবাসীদের শিক্ষা, খাদ্য, পোশাক ও তাদের চিকিৎসা খাতে ব্যয়ের জন্য মাথাপিছু ৪০০ টাকা হারে নির্দিষ্ট সংখ্যক এতিমদের জন্য ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রদান করার কাজ শুরু হয়।

Leave a Comment