স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে

 

স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সুশৃংখল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সংগঠনের এক বিশেষ প্রাণশক্তির আধার। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনে গড়ে উঠেছে সারা দেশে। প্রতিটি সমাজ সেবামূলক কাজ থেকে শুরু করে জাতীয় প্রগতি এবং অগ্রগতির দুশমন কালোবাজারী, মজুতদার, বেআইনী অস্ত্রবাহক প্রভৃতি সামাজিক শত্রুদের নির্মূল অভিযানে সরকারী কর্মসূচীর বাস্তবায়নে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী হচ্ছে দলের আদর্শ এবং উদ্দেশ্য কার্যকর করার জন্য একটি নিবেদিত কর্মী বাহিনী। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী প্রতিটি জেলায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অধীনে কাজ করেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনীর প্রধান ও উপ-প্রধানদের নেতৃত্বে থানা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত এর শাখা বিস্তৃত।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সাংগঠনিক কমিটি গঠনের পর বাংলা ১৩৭৯ সালের শ্রাবণ মাসে স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনীর আদর্শ, উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচীর উপর একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয়। স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী ৭০-এর নির্বাচনের পূর্বেও ছিল কিন্তু এর প্রকৃতি নিয়ম-কানুন এবং বিধি-বিধানগত মর্যাদা দেওয়া হয় বিগত গঠনতন্ত্রে এবং পরবর্তীকালে একটি নিয়মতান্ত্রিক ঘোষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে।

যে এলাকায় সুসংগঠিত বাহিনী আছে তাঁরা এর প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা উপলব্ধি করেছেন। বিগত কার্যকালে বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন জেলায় ১২০টি রাইফেল, ১০টি স্টেনগান, ৩০টি গ্রেনেড, ২০টি রকেট শেল, ২০ খানা তলোয়ার এবং ৩০ হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র-শস্ত্র বেশীর ভাগ রাজশাহী রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া প্রভৃতি জেলা থেকে পাওয়া গেছে।

 

একমাত্র রাজশাহী জেলা হতেই ১৮ই নভেম্বর ১৯৭৩ সালে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারকৃত ১২টি রাইফেল, ১টি বাহিনীর কর্মীরা ১৯৭২ সালের ১২ই এপ্রিল চাঁদপুরের মহনপুর গ্রাম থেকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা মূল্যের চোরাই রবার স্টেনগান, ৩ খানা তলোয়ার ও ৩০ হাজার রাউন্ড গুলি স্থানীয় পুলিশ ও রক্ষী বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া হয়। উদ্ধার করে রমনা থানা পুলিশের নিকট জমা দেয়।

এছাড়া জাতির ঐতিহাসিক দিনগুলিতে স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ মহড়া, সমাবেশ, মিছিল প্রভৃতির মাধ্যমে কর্মসূচীকে সফল করেছেন। ১৯৭২-এর ৭ই জুন, ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক- বাহিনীর সদস্যদের সমাবেশ আয়োজন করা হয়। ইতিহাসের এ অগ্নিক্ষরা দিনে তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অভিবাদন আপন করেন। এছাড়া ১৯৭২-এর ৫ই ডিসেম্বর এবং ১৯৭৩-এর ৫ই ডিসেম্বর মহান নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে অভিবাদন জ্ঞাপন করেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচীগুলিকে স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী প্রশংসনীয়ভাবে বাস্তবায়িত করেছে।

স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী অঙ্গ। একে সার্থকভাবে গড়ে তোলার অতীব প্রয়োজন। নিষ্ঠাবান, দেশ-প্রেমিক কর্মীদের ভর্তি করিয়ে একে সুসংহত, সংযত এবং আদর্শনিষ্ঠ দলীয় বাহিনী গঠন আমাদের জন্য অপরিহার্য। মূলতঃ এ বাহিনীর যতটুকু সফলতা আমরা এ পর্যন্ত অর্জন করেছি তার মূলে রয়েছে দু’টি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম আর বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা।

 

স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে

 

তাঁরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনীর প্রধান, জনাব আবদুর রাজ্জাক এবং উপর প্রধান প্রাক্তন সৈনিক ও তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত জনাব মাহফুজুল বারী। আজ বাহিনীর কৃতিত্বের জন্য এ কাউন্সিল সভায় সকল সদস্যদের অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং আগামী দিনে আরো উন্নতি কামনা করছি। স্বাধীনতার পূর্বে অসহযোগ আন্দোলনের সময় তাঁরা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তা সগর্বে স্মরণযোগ্য।

Leave a Comment