আজকে আমরা আলোচনা করবো- ৭০ এর নির্বাচন প্রসঙ্গে। ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনামলে ১৯৭০ সনে পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭০ সনের অক্টোবরে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১৯৭১ এর জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং প্রায় ৬৫% ভোট পড়েছে বলে সরকার দাবী করে। সর্বমোট ৫৬,৯৪১,৫০০ রেজিস্টার্ড ভোটারের মধ্যে ৩১,২১১,২২০ জন পূর্ব পাকিস্তানের এবং ২৩,৭৩০,২৮০ জন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের ভোটার। নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং প্রায় ৬৫% ভোট পড়েছে বলে সরকার দাবী করে। সর্বমোট ৫৬,৯৪১,৫০০ রেজিস্টার্ড ভোটারের মধ্যে ৩১,২১১,২২০ জন পূর্ব পাকিস্তানের এবং ২৩,৭৩০,২৮০ জন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের ভোটার।

৭০ এর নির্বাচন
নতুন সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়ার নেতৃত্বে নতুন সামরিক জান্তা সর্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি মেনে নিতে বলা হয়। এলএফও তথা সামরিক শাসকদের তথাকথিত লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে এক লোক এক ভোট-এর ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন।

১৯৭০ এর ৭ ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে পূর্ব-বাংলায় ১৬৪টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬২টি আসনে জয়লাভ করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫টি আসন।
মোট ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লারের মাধ্যমে বাংলার জনগণের নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবির্ভূত হন বাংলার গণমানুষের অবিসংবাদিত ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন।
এই নির্বাচনে সর্বমোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৭টি আসনে জয়লাভ করে। সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আসনও আওয়ামী লীগ পায়। ৩ জানুয়ারি ১৯৭১ বিশাল জনসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান এ্যাসেম্বলীর ৩০০টি আসনের ২৮৮টি জিতে নেয়। পশ্চিম পাকিস্তানের অপর চারটি এ্যাসেম্বলীতে তারা কোন আসন পায়নি। পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের এ্যাসেম্বলীতে পাকিস্তান পিপলস পার্টি ভালো করে কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে কোন আসনে জয় পায়নি। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং বেলুচিস্তানে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ওয়ালি) এবং পিএমএল (কাইয়ুম) ভালো করে।
